ক্যাম্পাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই ফেরত দিতে দেরি হলে এখনো এক টাকা জরিমানা দিতে হয়। আর সেই সামান্য অর্থ জমা দিতেও শিক্ষার্থীদের যেতে হয় ব্যাংকে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
জানা যায়, বই ফেরত দিতে আট থেকে নয় দিন দেরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে নাবিলা হককে এক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ জমা দিতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র এলাকার জনতা ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবার যুগে মাত্র এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকে যাওয়ার এমন নিয়ম অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও এর অধীন বিজ্ঞান পাঠাগারে দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ম চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনেক সেবা অনলাইনে চালু হলেও গ্রন্থাগারের জরিমানা পরিশোধের পদ্ধতিতে এখনো পরিবর্তন আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান পাঠাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের গ্রন্থাগারগুলো নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়ে থাকে।
নাবিলার দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সঙ্গে গ্রন্থাগারের জরিমানা আদায়ের একটি ফরমের ছবিও রয়েছে। সেখানে তার নাম, বিভাগ, হল ও গ্রন্থাগার কার্ডসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ এক টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ফরমটিতে গত ৩ নভেম্বর গ্রন্থাগারের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে।
বর্তমানে এক টাকার কাগুজে নোট সাধারণ লেনদেনে খুব একটা দেখা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৯ মে নতুন নকশার যেসব নোট ছাপানোর ঘোষণা দিয়েছিল, সেই তালিকায় এক টাকার নোট ছিল না। তবে এক টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন এখনো প্রচলিত রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নাবিলা বলেন, পূজার ছুটির আগে তিনি বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে বই নিয়েছিলেন। বই ফেরত দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২২ তারিখ। তবে ৩ তারিখে বই জমা দিতে গেলে ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার হল কাছাকাছি হওয়ায় জরিমানা জমা দিতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত। অন্য কোনো হলে থাকলে বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে জনতা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জরিমানার টাকা জমা দেওয়া বেশ ঝামেলার হতো।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল বলেন, এক টাকা জরিমানা হলেও ব্যাংকে জমা দিতে হয়, বিষয়টি তারও জানা ছিল না। এ নিয়ম অনেক পুরোনো। কাগজপত্র ঘেঁটে তিনি দেখেছেন, ১৯৭৫ সাল কিংবা স্বাধীনতার আগ থেকেই এ নিয়ম চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, সামনে গ্রন্থাগার কমিটির সভা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যেহেতু জরিমানার পরিমাণ সামান্য, তাই অনলাইনে তা পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হতে পারে।
গ্রন্থাগার পরিচালক আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের পর বই জমা দেওয়া কিংবা বই হারিয়ে ফেললে বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কোনো বই সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হলে সেটির মূল্য পরিশোধ করলেই হয়। তবে ১৯৬০ সালের কোনো বইয়ের গায়ে যদি ৫০ পয়সা দাম লেখা থাকে, তাহলে সেটির ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।