সারাবিশ্ব
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানোর শঙ্কায় পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে রাখা হবে, নাকি সরিয়ে দেওয়া হবে-এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের জন্য শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকাও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের ওপরও দায় চাপানো হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এমন আলোচনা সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের হারের কারণ হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে এ কথা বলেছেন।’ তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে ইরান সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ভ্যান্স আরও জানান, ভোটারদের সঙ্গে আলোচনায় রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন ফিরে পাওয়ার জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলো হলো-যুদ্ধের অবসান ঘটানো, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দলটির জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেডি ভ্যান্সের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী বিপর্যয়ের প্রভাব দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশলে কতটা পড়বে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য আলোচনা চলাকালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নাম প্রস্তাব করেছেন আলোচনায় যুক্ত একজন ব্যক্তি। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। বুধবার এক সাংবাদিক হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, হেগসেথ ‘খুব ভালো কাজ করছেন’।
এ সময় হেগসেথ টেনেসির শূন্য সিনেট আসনে নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে সে খুব জনপ্রিয় হবে।’ তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখনো কিছু শোনেননি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এর আগে গত মাসে কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে সামরিক সংঘাত শুরু করার অভিযোগে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনী বিপর্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং সামরিক অভিযানের বিতর্কের মধ্যে হেগসেথের মন্ত্রিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।