জাতীয়
গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে সীমান্তের ওপার থেকে: প্রধানমন্ত্রী
গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। তবে সরকার কোনোভাবেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস হতে দেবে না।
শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে লাখ লাখ ভাই-বোন ও মা কাজ করছেন। এই শিল্পের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাঁদের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হয়েছে। তাঁর মতে, কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা প্রকৃত শ্রমিক কখনো নিজেদের কর্মস্থল ও শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। কারখানার যন্ত্রপাতি ভাঙচুর কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এর মাধ্যমে শ্রমিক ভাই-বোনদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বক্তব্যে গত ১৫-১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সময়ে একটি মহল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু শ্রমিকদের দাবিকে সামনে রেখে কোনো পক্ষ যদি শিল্পকারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে তাতে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।