স্বাস্থ্য

ঢামেকের জরুরি বিভাগে কে চিকিৎসক, কে দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

ঢামেকের জরুরি বিভাগে কে চিকিৎসক, কে দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট পোশাক বা ড্রেসকোড না থাকায় কে চিকিৎসক, কে নার্স আর কে দালাল, তা শনাক্ত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন চিকিৎসককে তাঁদের নির্ধারিত কক্ষে উপস্থিত না পেয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী অভিযোগ করেন, তাঁরা যথাসময়ে চিকিৎসা পান না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনেককে হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। এ কারণে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছেন তাঁরা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হাসপাতালও পরিদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

জরুরি বিভাগের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা মেডিকেলে এসে জরুরি বিভাগের কয়েকটি চিকিৎসাকক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোনো পোশাক বা পরিচয় শনাক্ত করার মতো ব্যবস্থা নেই। ফলে কে চিকিৎসক, কে নার্স আর কে দালাল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাযথভাবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

পরিদর্শনের সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, তখন দুপুর সোয়া ১২টা বাজলেও কয়েকটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কেউ জানিয়েছেন, তাঁরা বাইরে গেছেন, আবার কেউ বলেছেন, চা খেতে গেছেন। অন্যদিকে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, চিকিৎসাকক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্বে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে দালালদের সহযোগিতায় রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা বন্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণ করা দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান পরিদর্শনে যেসব সমস্যা ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা এবং রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন হাসপাতাল পরিচালক।