সারাবিশ্ব
ইউরোপজুড়ে বোমা আতঙ্কের মধ্যে ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটিতে আইরিশ বিমানের জরুরি অবতরণ
বোমা হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচলে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে ডাবলিন থেকে রোমগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান ফ্রান্সের সামরিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) আইরিশ বিমান সংস্থা এয়ার লিঙ্গাসের এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজটি বোমা আতঙ্কের কারণে গতিপথ পরিবর্তন করে নরম্যান্ডির এভরেক্স বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমান ও নৌযানে বোমা হামলার হুমকির ঘটনার মধ্যেই সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দপ্তর। বিমানটির জরুরি অবতরণ এবং পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার লিঙ্গাসের ইআই৪০২ নম্বর ফ্লাইটটি ডাবলিন থেকে রোমের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এ সময় উড়োজাহাজটি জরুরি পরিস্থিতির সংকেত হিসেবে স্কোয়াক ৭৭০০ পাঠায় এবং ফ্রান্সের এভরেক্স এলাকার আকাশে কয়েকবার চক্কর দেয়। পরে নরম্যান্ডির এভরেক্স-ফভিল সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
এর মাত্র এক দিন আগেই মঙ্গলবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক বিমান ও একটি প্রমোদতরীতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির মুখে পড়া বিমানগুলোর মধ্যে ছিল পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা এলওটি, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস, উইজ এয়ার এবং রায়ানএয়ারের উড়োজাহাজ। সব মিলিয়ে অন্তত সাতটি বিমান ও একটি প্রমোদতরীকে লক্ষ্য করে এসব হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এসব হুমকির কারণে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে সাময়িকভাবে একটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। অন্যদিকে, ইতালির রাজধানী রোমে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশে উড়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানোর পর কোনো বিস্ফোরক কিংবা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এর আগের সোমবারও একই ধরনের বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়ে বুলগেরিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানটিকে গতিপথ পরিবর্তন করে হাঙ্গেরিতে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ওই ঘটনাতেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের যাত্রীবাহী বিমান ও নৌযানে এ ধরনের হুমকির ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।