সারাবিশ্ব
নিজের জন্মদিনের পার্টিতে নেচেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৯৭ বছরের বৃদ্ধ
জীবনের শেষ মুহূর্তটিও যেন উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে কাটল ৯৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ মার্কিন নাগরিকের। নিজের ৯৭তম জন্মদিনের জমকালো পার্টিতে জনপ্রিয় ডিস্কো গান ‘স্টেয়িং অ্যালাইভ’-এর তালে নাচানাচি ও আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ভিটো নামের ওই বৃদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৪ বছর বয়সী বেকার ইডেন ম্যালিনফ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রতিবেশী ভিটোর জন্মদিন উদ্যাপনের একটি ভিডিও এবং জীবনের শেষ মুহূর্তের গল্প শেয়ার করেন। এরপরই ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ম্যালিনফ জানান, বয়স ৯৭ বছর হলেও ভিটোর মধ্যে ছিল অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্য ও জীবন উপভোগ করার প্রবল আগ্রহ। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একটি হ্যালোইন থিমের জমকালো পার্টির আয়োজন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কালো শার্ট ও ড্রেস প্যান্ট পরা ভিটো বেশ আনন্দের সঙ্গে হাততালি দিচ্ছেন, নাচছেন এবং প্রাণখোলা হাসিতে মেতে উঠেছেন। এ সময় পেছনে বাজছিল বিখ্যাত সংগীতদল বি জিসের ১৯৭০-এর দশকের জনপ্রিয় ডিস্কো গান ‘স্টেয়িং অ্যালাইভ’। গানের তালে তাঁর এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর জীবনের শেষ জন্মদিনের উদ্যাপন।
ভিটোর জন্মদিনকে আরও বিশেষ করে তুলতে নিজের হাতে একটি রেড ওয়াইন চকলেট কেক তৈরি করেছিলেন ম্যালিনফ। নিজের কেক ও কুকির ব্যবসার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতেই বিশেষ এই কেকটি তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়া ভিটোর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকার রহস্য জানতে চাইলে তিনি মজা করে প্রায়ই একটি পরামর্শ দিতেন। সেটি হলো, ‘কখনো সস্তা মদ পান করবে না।’
তবে জন্মদিনের আনন্দঘন আয়োজনের মধ্যেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। গান-বাজনা ও নাচের মধ্য দিয়ে পার্টি চলার পর হঠাৎই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ভিটো। ম্যালিনফ স্পষ্ট করেন, ভিটো ওই সময় মোটেও মদ্যপ ছিলেন না। এটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত অতিথিরা প্রথমে হতবাক হয়ে পড়েন।
ভিটোর শেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ম্যালিনফ বলেন, রাতটি যেভাবে শেষ হবে বলে তাঁরা ভেবেছিলেন, বাস্তবে তা হয়নি। তবে ভিটো অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর মতে, ভিটো যদি নিজের বিদায়ের মুহূর্তটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতেন, তাহলে হয়তো এমন একটি মুহূর্তই চাইতেন। কারণ, জীবনের শেষ সময়ে তিনি ছিলেন তাঁর প্রিয় মানুষদের, আর সবাই মিলে উদ্যাপন করছিলেন তাঁর দীর্ঘ ও পরিপূর্ণ জীবন। এমন একটি মুহূর্তের অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করেন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ভিটোর মৃত্যুতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তটি যেভাবে আনন্দ ও প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কেটেছে, সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ৯৬-৯৭ বছর বয়সে একজন মানুষের মৃত্যু অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে জীবনের শেষ সময়টি বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে পারা এবং দীর্ঘ কষ্ট ছাড়াই বিদায় নেওয়াকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
আরেকজন লিখেছেন, তিনিও পৃথিবী থেকে এমনভাবেই বিদায় নিতে চান-প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে থেকে। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, এত দীর্ঘ জীবন পার করার পর ভালোবাসার মানুষদের থেকে জীবন উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়ার চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে!
সব মিলিয়ে, ৯৭ বছর বয়সী ভিটোর জন্মদিনের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পাশাপাশি জীবনের শেষ মুহূর্ত নিয়েও মানুষের মধ্যে নানা অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো তাঁর শেষ সময়টি অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয় বিদায়ের গল্প।