রাজনীতি

শিল্পকারখানায় অস্থিরতা তৈরিতে পলাতক আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

শিল্পকারখানায় অস্থিরতা তৈরিতে পলাতক আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারের আশ্বাসের পর প্রকৃত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। তবে একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে দেশের শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি দাবি করেন, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি, পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীদের ইন্ধন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউরিতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে কাজীর দেউরি থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে নগরের জামালখান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই লুটপাট ও দুর্নীতির রাজনীতি আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে দেশের মানুষ আর অতীতের সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই দেশের মানুষ সেই শক্তি ও সাহস পায়।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হলো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের প্রতিহত করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে কথা বলার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ৭ নভেম্বরের চেতনা ভূমিকা রেখেছে। দেশের মানুষ আর গুম, খুন কিংবা রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষ তাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। তাঁর দাবি, তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রাফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়ত হোসেন বুলু এবং মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।