সারাবিশ্ব
ইরান যুদ্ধেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়, ভ্যান্সকে ট্রাম্পকে সতর্ক করার পরামর্শ গালিবাফের
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের এক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে ভ্যান্সের উচিত তাঁর ‘বস’ অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করা। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গালিবাফের এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জুয়াড়ি যখন হেরে যায়, তখন সে টেবিল ছেড়ে উঠতে পারে না।’ এরপর ট্রাম্পের নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ইসরায়েল-সর্বস্ব’ নীতির কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে গালিবাফ আরও বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা বা জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং তাঁর উচিত নিজের বসকে সরাসরি এসব কথা জানানো।
এর আগে বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মন্তব্য করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, নির্বাচনের আগেই ফলাফল নিয়ে তাঁর মধ্যে একধরনের নেতিবাচক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল তাঁকেও বিস্মিত করেছে।
ভ্যান্স তাঁর পোস্টে একটি জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেক ভোটার পরবর্তী সময়ে রিপাবলিকানদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এসব ভোটারকে আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরিয়ে আনার উপায় জানতে চাইলে জরিপে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
বিষয়গুলো হলো-ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনা। ভ্যান্সের মতে, এসব ইস্যুতে রিপাবলিকানদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের কারণেই ট্রাম্পের সাবেক অনেক সমর্থক দলটির কাছ থেকে সরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জরিপ পরিচালনাকারী ব্যক্তি নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কেও সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
এদিকে, ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সোমবার র্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফির সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। তবে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর দেওয়া পরামর্শ যথার্থ ছিল বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ভ্যান্স আরও সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক মাসে এসব ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ ক্ষমা বা ‘অ্যামনেস্টি’কে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হতে পারে। তবে তিনি এ ধরনের অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল। তাঁর এই মন্তব্যের পরই গালিবাফ পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার আহ্বান জানান। ফলে ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।