সারাবিশ্ব

ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন বাহিনী, হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ ট্যাংকারে আগুন


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন বাহিনী, হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ ট্যাংকারে আগুন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচটি তেলের ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এসব ট্যাংকারের কয়েকটিতে নৌ-মাইন বা পানির নিচে পেতে রাখা বিস্ফোরকের আঘাতে আগুন ধরে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করায় আরও দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। নৌবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মোট পাঁচটি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল জোট। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ওই দাবি অস্বীকার করেছে হুতিরা।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজও সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই এসব বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার ধরন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানটি সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও আক্রমণের তীব্রতা হতে পারে অনেক বেশি। ওই অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড, সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।