সোশ্যাল মিডিয়া
এবার তালাকের নোটিশ ও কথিত কাবিননামার তথ্য প্রকাশ করলেন রনি
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ঘিরে স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারীকে নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এবার তালাকের নোটিশ ও কথিত কাবিননামা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। পুরো ঘটনা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি। সেখানে ওই নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
শুক্রবার ৬ নভেম্বর দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন, স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারী প্রথমে তার অফিসে এবং পরে ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পরে শাহবাগ থানায় অভিযোগও করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রনি লেখেন, ‘সময়টা ইউনূস জমানার। তখন ইল্লুদের প্রভাব তুঙ্গে! ইল্লুর প্ররোচনায় স্ত্রী দাবি করা মহিলা হঠাৎ একদিন আমার অফিস এলেন। আমি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলাম।’
রনির দাবি, অফিসে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীর কাছে বিয়ের প্রমাণপত্র চাওয়া হলে তিনি কাগজপত্র থাকার কথা জানালেও তা দেখাননি। ওই নারী জানান, কাগজপত্র তার কাছে নেই। সেগুলো পেলে আইন অনুযায়ী তালাক দেবেন বলেও জানান তিনি। পরে পুলিশ ওই নারীকে অফিস থেকে নিয়ে গেলেও নিচে গিয়ে তিনি পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন রনি।
এরপর ওই নারী ধানমন্ডিতে তার বাসায় যান বলে অভিযোগ করেন গোলাম মাওলা রনি। এ ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই নারীর আত্মীয় পরিচয়ে দুজন ব্যক্তিও উপস্থিত হন। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করে বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন রনি।
কথিত কাবিননামা পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। রনির দাবি, আইনজীবীরা তাকে জানান, কাবিননামার যথার্থতা এবং এর পেছনের ঘটনা আদালতে প্রমাণ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এতে তাকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে রাখার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে কথিত কাবিননামা অনুযায়ী তালাক কার্যকর করে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে রনি জানান, পুরো ঘটনা উল্লেখ করে তিনি শাহবাগ থানায় মামলা করেন, তালাকের নোটিশ পাঠান এবং কথিত কাবিননামায় উল্লেখিত অর্থ পরিশোধ করেন। এরপরও ওই নারীর পক্ষের লোকজন একাধিকবার যোগাযোগ করে তার সামাজিক সম্মানকে পুঁজি করে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, ওই নারীর আগের স্বামীর ঘরে থাকা বিবাহযোগ্য এক মেয়ে ও এক কিশোর ছেলের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নেননি।
রনি আরও জানান, ঘটনার শুরু থেকেই তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের সহযোগিতা ও সমর্থনের কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার মানসিক ও নৈতিক শক্তি অটুট ছিল।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। রনির দাবি, ওই নারী ও তার কথিত পৃষ্ঠপোষক ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এ ছাড়া বনি আমিন নামের আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেওয়া হয় তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে।
তালাক কার্যকর ও অর্থ পরিশোধের পর সংশ্লিষ্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন রনি। তার ভাষ্য, আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর ও নিবন্ধন হওয়ার পাশাপাশি ওই নারী তার দাবিকৃত অর্থ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আর এগোনোর সুযোগ ছিল না।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম মাওলা রনি। তার প্রশ্ন, এতদিন পর এনসিপির নাহিদরা কেন ওই নারীকে ঘিরে এতটা আগ্রহ দেখালেন এবং তার নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলেন।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার মতো অনেক মানুষ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কীভাবে হয়রানির শিকার হতেন, তা জানতে চাইলে শাহবাগ থানায় করা তার অভিযোগটি পড়া যেতে পারে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের জীবন ও অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। রনির দাবি, তার জীবনে গোপনীয়তা, লুকোচুরি কিংবা অন্যায়ের সঙ্গে আপসের কোনো ঘটনা নেই। জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করলেও কখনো আপস করেননি। কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে না চাইলেও কেউ বিরোধে জড়ালে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা মোকাবিলা করেছেন।