অর্থনীতি

ব্যবসায়ীদের দাবি সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ রাখলে ৬০ শতাংশ বিক্রি কমবে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

ব্যবসায়ীদের দাবি সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ রাখলে ৬০ শতাংশ বিক্রি কমবে
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের মোট বিক্রির বড় অংশই হয় সন্ধ্যার পর, যা ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা ‘পিক আওয়ার’। তাই এই সময় দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হলে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।

তাদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নেওয়া এই পদক্ষেপ খুব বেশি কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ খুচরা ব্যবসা খাত ব্যবহার করে। বরং গরমের সময়ে দিনের বেলায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে।

এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু বিক্রি কমবে না, কর্মসংস্থান ও সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার প্রথমে দোকান ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন, দোকান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। ব্যবসায়ীদের অনুরোধের পর সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা নির্ধারণ করা হয়।

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএফ গ্রুপ-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল বলেন, দিনের বেলায় মানুষ কর্মব্যস্ত থাকায় কেনাকাটা কম হয়, বেশিরভাগ ক্রেতা সন্ধ্যার পরই বাজারে আসেন। ফলে এই সময় দোকান বন্ধ হলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ই সমস্যায় পড়বেন।

তিনি আরও জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার আউটলেট পরিচালনা করে, যেখানে বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ করেন। সময়সীমা কমিয়ে দিলে বিশেষ করে পার্ট-টাইম কর্মীরা, যেমন শিক্ষার্থীরা, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে, ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট খালিদ মাহমুদ খান বলেন, গরমের কারণে দিনের বেলায়ই দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। তাই পিক আওয়ারে দোকান বন্ধ রাখলে কেনাকাটা ব্যাহত হবে এবং সরকারের কর আদায়ও কমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে খুচরা ব্যবসার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।