অর্থনীতি
বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রেখে মারা যাচ্ছেন সিকদার পরিবারের সদস্যরা
একসময় দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে প্রভাবশালী নাম হিসেবে পরিচিত জয়নুল হক সিকদার-এর প্রতিষ্ঠিত সিকদার পরিবার এখন বিপুল খেলাপি ঋণ ও সংকটে জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারটির কর্ণধার জয়নুল হক সিকদার ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের ছেলে ও সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার।
এর আগে রন হক সিকদারের আরেক ভাই রিক হক সিকদার বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমানে পরিবারটির অধিকাংশ সদস্য বিদেশে অবস্থান করছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর ব্যাংক খাতে সিকদার পরিবারের প্রভাব ব্যাপকভাবে বাড়ে। বিশেষ করে ন্যাশনাল ব্যাংক-এ একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তাদের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের শুরুতে সিকদার গ্রুপের ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ছিল প্রায় ৬,৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, রিয়েল এস্টেট ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়।
বিশেষ করে পাওয়ার প্যাক মতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্টের নামে একাই দুই হাজার কোটির বেশি ঋণ রয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ও এভিয়েশন খাতেও শত শত কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।
পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় অনাদায়ী সুদসহ মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে ব্যাংকিং সূত্র জানিয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংক এই ঋণের অংশীদার।
অন্যদিকে, পরিবারটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিদেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
২০২০ সালে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হুমকির ঘটনায় রন হক সিকদার আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।
একসময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যাংক খাতে শক্ত অবস্থানের কারণে আলোচনায় থাকা সিকদার পরিবার এখন বিদেশে অবস্থান, আইনি জটিলতা ও বিপুল ঋণের চাপে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্য: বণিক বার্তা