সারাবিশ্ব
স্টারলিংকে বিধিনিষেধ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা কমে যাবে এবং রুশ হামলা প্রতিহত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অবস্থানকে কিয়েভের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন জেলেনস্কি। স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের চাপ এবং মস্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার বোধ করছি’
লন্ডন সফরকালে ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, স্টারলিংক ব্যবহারে আকস্মিক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃত ছিল কি না এবং এতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার বোধ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যিই, হ্যাঁ। তবে বিষয়টি শুধু আমার আবেগ বা অনুভূতির চেয়ে একটু বেশি জটিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলো, আমরা একজন শক্তিশালী অংশীদারকে হারাচ্ছি।’
জেলেনস্কির অভিযোগ, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে আগাম সতর্ক না করেই স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা, সামরিক যোগাযোগ এবং রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির কারণে আরও মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
স্টারলিংকে বিধিনিষেধ, ব্যাহত ইউক্রেনের সামরিক অভিযান
বুধবার ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে গতিসীমা আরোপ করা হয়েছে। ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে চলা টার্মিনালগুলোতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ইলন মাস্কের মহাকাশপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিংক ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানাধীন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, বিধিনিষেধের কারণে রুশ অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত কিছু ড্রোন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জেটচালিত আক্রমণকারী ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সমস্যার মুখে পড়েছে।
জেলেনস্কির সামরিক প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ জানান, স্টারলিংকের সংযোগে আকস্মিক সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকতে পারে। তবে বিধিনিষেধ আরোপের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, তারা জানত তারা কী করছে। একেবারেই নিশ্চিত। কারণ, রাত ১টার সময় স্পেসএক্স ও যুক্তরাষ্ট্র স্টারলিংক বন্ধ করে দেয়।’
এর পরিণতি সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। অবশ্যই, মানুষ মারা যাবে।’
বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত কার, যা বললেন ইলন মাস্ক
স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিজের নয় বলে জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানাধীন এবং এর পরিচালনা ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণের দায়িত্বও মার্কিন সরকারের।
মাস্ক বলেন, ‘স্টারশিল্ড ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের মালিকানাধীন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এর গতি বা ব্যবহারে কোনো সীমা আরোপ করা হবে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন।’
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, বিধিনিষেধ আরোপের আগে তাঁদের কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে ড্রোন পরিচালনা এবং সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বেসক্রেস্তনভ বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানত না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিধিনিষেধের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ব্যাহত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে।
রুশ ড্রোন প্রতিরোধেও বাড়ছে উদ্বেগ
স্টারলিংক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার জেটচালিত শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ড্রোনবিরোধী আকাশযান ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব কার্যক্রমের কিছু অংশে স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
বেসক্রেস্তনভের দাবি, রাশিয়া শাহেদ ড্রোনের ইঞ্জিন ও সক্ষমতা উন্নত করার পর সেগুলো ভূপাতিত করার হার কমে এসেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ড্রোন ভূপাতিত করার হার ৯০ শতাংশের বেশি ছিল, তা কমে প্রায় ৬০ শতাংশে নেমেছে।
তিনি বলেন, স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ ইউক্রেনকে রুশ ড্রোন প্রতিহত করার সীমিত কয়েকটি কার্যকর উপায়ের একটি থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
তবে বিধিনিষেধের প্রভাব সব ধরনের সামরিক কার্যক্রমে সমান নয়। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পরিচালিত ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় এর প্রভাব পড়ার কথা নয়, কারণ ওই ধরনের হামলায় স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর আগে থেকেই বিধিনিষেধ রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়েও উদ্বেগ
স্টারলিংক নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ভবিষ্যতে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সীমিত করা হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্প অবশ্য এর আগে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা না পাওয়ার ঘটনাও এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, কয়েক বছর ধরে রুশ হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছিল।
জেলেনস্কির মতে, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে অনিশ্চয়তা একসঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়
২০২৫ সালের বসন্তে ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দুই নেতার বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে সময় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, যুদ্ধ জয়ের মতো তাস তাঁর হাতে নেই।
ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র অল্প সময়ের জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপীয় মিত্রদেরও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তবে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার পেছনে আরও বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
জেলেনস্কির পাশে থাকার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন জোরদার করতে লন্ডন সফর করেন জেলেনস্কি। বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর আগে বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠকের শুরুতে বার্নহাম ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘এখানে ব্রিটেনে আপনি সবার কাছ থেকে যে সংহতি ও সমর্থন পেয়েছেন, তা দেখেছেন। আমরা আপনার পাশে আছি, আর তা বদলাবে না।’
বৈঠকের আগে বার্নহাম আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, জেলেনস্কি যুক্তরাজ্য থেকে ‘খালি হাতে ফিরবেন না’। ইউক্রেনকে আরও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহের বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনকে হালকা ও বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে আরও সহায়তার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তাঁর লক্ষ্য, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।
চেরনোবিলের সুরক্ষামূলক ছাদ মেরামতে অর্থ দেবে যুক্তরাজ্য
ইউক্রেনের জ্বালানি ও পারমাণবিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশের ওপর থাকা সুরক্ষামূলক ছাদ মেরামতের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
চেরনোবিলের ওই সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থাপনাটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মেরামতের জন্য যুক্তরাজ্যের এই অর্থায়ন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার উদ্যোগের অংশ।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় হামলা
স্টারলিংক নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কির দাবি, মঙ্গলবার রাতে কিয়েভ ও খারকিভ লক্ষ্য করে ৩৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২০টি আক্রমণকারী ড্রোন ছোড়া হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় পাঁচটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং বড় শহরগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ওই প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেওয়ার আগে এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে, ক্রেমলিন দাবি করেছে, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির বিস্তারিত শর্ত নির্দিষ্ট করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বক্তব্য অনুযায়ী, শর্ত স্পষ্ট না হওয়ায় রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মানছে না-এমন দাবি করা যায় না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহামও বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা আগ্রহী। তবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার অব্যাহত হামলার কারণে ইউক্রেনের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে বাড়তি সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে তৎপরতা চালাচ্ছে কিয়েভ।