জাতীয়

ধৈর্য ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ধৈর্য ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ গঠনের একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ধৈর্য ও ঐক্যের মাধ্যমে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএআরআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআইয়ের অবদান এবং বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় কৃষি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধৈর্য ধরে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে দেশের বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিগত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

কৃষি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। কৃষকেরা অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্য দাম পান না। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত সংরক্ষণাগার নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিকে লাভজনক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। একই সঙ্গে ফসলের অপচয় কমানো, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

মির্জা ফখরুলের মতে, কৃষির টেকসই উন্নয়নে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন ও গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।