জাতীয়
বাংলাদেশ আর আই অ্যাম জিপিএ ফাইভের যুগে ফিরে যেতে চায় না
দেশের শিক্ষকদের একটি অংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া শুধু তাঁদের মর্যাদাহানির কারণ নয়, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে কায়সার কামাল বলেন, দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষকদের কাছ থেকে সমাজ যে সততা ও আদর্শের প্রত্যাশা করে, তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
শিক্ষার মান ও মূল্যায়নব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর আই অ্যাম জিপিএ ফাইভের যুগে ফিরে যেতে চায় না।” তাঁর এই বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত জ্ঞান অর্জন, নৈতিকতা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার গুরুত্ব উঠে আসে।
কায়সার কামাল আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশকে বারবার ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ এবং প্রত্যাশাকে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।
ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা জাতীয় অগ্রগতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।