সারাদেশ

অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি, তবুও মেলেনি স্বস্তি; ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি, তবুও মেলেনি স্বস্তি; ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

অভাবের তাড়নায় প্রায় এক মাস আগে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০)। তবে কিডনি বিক্রি করেও আর্থিক সংকট কাটেনি তার। এরই মধ্যে ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর তার কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের মাত্রাই বাজার থেকে ছামছুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ছামছুল উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শাইলগুন গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর ছামছুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কিডনি বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। ছামছুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাই যাওয়ার পথে ইরানে যান। সেখানে একটি হাসপাতালে নিজের বাম পাশের কিডনি পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন বলে দাবি করেন তিনি।

ছামছুল জানান, চট্টগ্রামে কাজ করার সময় মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় তার। একপর্যায়ে তার পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে তাকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছামছুলকে গ্রেপ্তারের সময় তার পকেটে ইরানের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার শরীরের বাম পাশেও অস্ত্রোপচারের দাগ দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে কিডনি বিক্রির বিষয়ে তার দেওয়া তথ্য ও দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করছেন। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ওসি আরও বলেন, কালাই উপজেলায় কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সক্রিয় দালালদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভাবের কারণে কিডনি বিক্রির এমন দাবি যেমন মানবিক ও সামাজিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, তেমনি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টিও সামনে এসেছে।