জাতীয়
শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা জরুরি, না হলে শিক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব না দিলে শুধু শিক্ষিত হওয়াও অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি বাড়ায় এবং সত্য-মিথ্যা, তথ্য ও অপতথ্য এবং পক্ষপাতের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। অর্জিত শিক্ষা মানবকল্যাণে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। শুধু পড়াশোনা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়াই প্রকৃত শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত শিক্ষার দিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে সেই শিক্ষা কখনো কখনো সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে এবং নিজেদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলার গুরুত্বও অপরিসীম। শিক্ষার্থীরা যদি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে এবং ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত না রাখে, তাহলে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে হলে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জনের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতো। তাঁর সময়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও স্মার্টফোনের সুযোগও বর্তমানের মতো সহজলভ্য ছিল না। কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে শিক্ষার্থীদের সামনে জ্ঞান অর্জনের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা ও উদ্দেশ্যের ওপর। এই প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত সহযোগিতা নেওয়া সম্ভব। আগে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়া কিংবা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই অনেক বিষয়ে শেখার সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে এসব সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও এআইয়ের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপিসহ অন্যান্য অতিথি।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার, নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করার এবং নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।