শিক্ষা
জুলাইয়ে ১ কোটি ৭ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, ব্যাগ-জুতা দেবে সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা ও মোজা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী জুলাইয়ে একটি পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (০৮ জুন) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাইলটভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পাটজাত স্কুল ব্যাগ প্রদান কার্যক্রমের প্রস্তুতিমূলক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, স্কুলে যাওয়ার উপযোগী জুতা ও মোজা সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এর প্রথম ধাপ হিসেবে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ লাখ পাটের স্কুল ব্যাগ সরবরাহে সহযোগিতা করবে।
একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং দ্রুত শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা দেবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশাবাদী, সরকারের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশব্যাপী এই পাইলট কর্মসূচি শুরু করতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর কাছে ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, জুতা ও মোজা পৌঁছে দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। পিইডিপি-৫-এর আওতায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।