শিক্ষা

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি
ছবি: সংগৃহীত

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এই পরিকল্পনায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রাথমিক তহবিল এবং অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হবে না।

তিনি জানান, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। যাদের ভালো ব্যবসায়িক উদ্ভাবনী ধারণা রয়েছে, তাদের জন্য ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থাও করা হবে।

এ ছাড়া জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইউরোপীয় ভাষায় তিন থেকে ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএসসিতে অকৃতকার্য বিষয়ে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে সরকার আশাবাদী।

শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু মেধার ঘাটতির কারণে নয়, আর্থিক অসংগতি, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট কিংবা পরীক্ষার আগে পারিবারিক সমস্যার কারণেও শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হতে পারে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থতা নয়। শুধু সনদের ভিত্তিতে কারও জীবন বিচার করা যায় না। একটি বিষয়ে খারাপ ফল করার কারণে কারও মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও ডা. আরিফুর রহমান।