বিনোদন
বিতর্কিত শব্দে কনসার্টে ঘিরে তীব্র সমালোচনা, ক্ষুব্ধ শিল্পী আসিফ আকবর
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত কনসার্ট ঘিরে এখন চলছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা। ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই কনসার্টটি সরাসরি সম্প্রচার করেছিল রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
তবে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিছু শিল্পীর অশ্লীল ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করায় বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিটিভির লাইভ ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একাধিক শিল্পী গানের ফাঁকে একাধিকবার অশ্লীল ও আপত্তিকর ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করছেন। বিশেষ করে একজন শিল্পীকে বারবার ‘ফা*কিং’ শব্দটি উচ্চারণ করতে শোনা যায়, যা অনেক দর্শকের কাছে চরমভাবে আপত্তিকর লেগেছে।
বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এমন অশ্লীলতা সরাসরি সম্প্রচার হতে পারে?
এই ঘটনার পর আজ (৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘হিপহপের নামে অসভ্য শব্দচয়ন এবং বিটিভিতে সম্প্রচার বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।’ তিনি সতর্ক করে আরও লেখেন, ‘সাধু সাবধান।’
আসিফের এই পোস্টে তার অসংখ্য অনুসারী ও ভক্ত একমত পোষণ করেন। অনেকে এই কনসার্ট আয়োজন ও সম্প্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মেহেদী হাসান নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এমন অশ্লীল গান বিটিভিতে প্রচার করল কীভাবে?’ সোহেল মেহেদি লেখেন, ‘খুবই বাজে, এটা মোটেই শোভন নয়।’
কামরুল হাসান নামের একজন বলেন, ‘অপসংস্কৃতির বহুবিধ রূপ আমরা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হিপহপের এমন ভাষা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্ভবত আয়োজকরা বুঝতেই পারেননি শিল্পীদের লিরিক কেমন হতে পারে।’
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী সিথি সাহাও। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে গীতিকার ও সংগীতশিল্পী লুৎফর হাসান লিখেছেন, ‘মানিক মিয়া এভিনিউয়ের কনসার্টের একটি ভিডিও দেখলাম। একদল ছাপড়ি ইংরেজিতে “ফাকিং গাইজ” না কী যেন বলছে! এই মানের খাঁটি ছাপড়িরা কীভাবে এমন একটি উন্মুক্ত কনসার্টের মঞ্চে উঠল?’
সংস্কৃতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারের আগে অনুষ্ঠানবিষয়ক আরও সচেতনতা ও বাছ-বিচার প্রয়োজন। নতুবা রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে।
এ ঘটনায় বিটিভি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।