সারাদেশ

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক সুমন: পুলিশ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক সুমন: পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনকে বহনকারী অটোরিকশাচালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। তবে নির্ধারিত পথে না গিয়ে সুমন তাকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ সময় তাজমিনের সঙ্গে সুমনের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে সুমন তাকে কাবু করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান এবং ফোনটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, তা এ পর্যায়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তিনি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। একই রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থানের তথ্য পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।