বিনোদন
নগ্ন দৃশ্যের বিতর্ক পেরিয়ে নতুন পরিচয়ে ডাকোটা জনসন, সম্পদ ১৬৫ কোটি টাকা
অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্ক, সবকিছু মিলিয়ে হলিউডে আলোচিত নাম ডাকোটা জনসন। ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ সিনেমায় সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি। তবে এই খ্যাতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় নগ্ন দৃশ্য, যৌনতার উপস্থাপন এবং নানা সমালোচনা। সেই বিতর্ক পেছনে ফেলে বর্তমানে অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১৬৫ কোটি টাকা।
সম্প্রতি র্যাপার মেশিন গান কেলি, যিনি এমজিকে নামেও পরিচিত, তার সঙ্গে ডাকোটার প্রেমের গুঞ্জন নতুন করে ছড়িয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলির বিয়ের অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়।
তবে এমজেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি কিছু জানাননি ডাকোটা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অবস্থানেই রয়েছেন তিনি।
অভিনয় পরিবারের সন্তান ডাকোটা
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে জন্মগ্রহণ করেন ডাকোটা মাইয়া জনসন। তার বাবা অভিনেতা ডন জনসন এবং মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তার নানি টিপ্পি হেড্রেনও হলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী।
অভিনয় জগতের এমন পারিবারিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন ডাকোটা। মাত্র ৯ বছর বয়সে মায়ের অভিনীত এবং তৎকালীন সৎবাবা অ্যান্টোনিও বান্দেরাস পরিচালিত ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়।
পরবর্তী সময়ে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করতে থাকেন তিনি। ২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর ‘বেস্ট্রান্ড’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ ইয়ার এনগেজমেন্ট’ এবং ‘বেন অ্যান্ড কেট’সহ বেশ কয়েকটি কাজে দেখা যায় তাকে। তবে তখনো বড় তারকা হয়ে ওঠেননি তিনি।
‘ফিফটি শেডস’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার
২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। ই এল জেমসের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। তার বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান।
মুক্তির আগেই সিনেমাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গল্পে যৌন সম্পর্ক, নগ্নতা, আধিপত্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের নানা জটিল বিষয় থাকায় সমালোচনার কেন্দ্রেও চলে আসে ছবিটি।
ডাকোটার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোতে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা। এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় তাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখতে এসব দৃশ্যের শুটিং সীমিতসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে করা হতো। চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছিল তাকে।
২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাকোটা জানান, যৌনতা নিয়ে তার কৌতূহল ছিল। সে কারণেই এমন একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে নির্মাণের পর ছবিটি তার কল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি।
বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য
প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এরপর মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ ও ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’।
দ্বিতীয় সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয়টি প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে। তিনটি সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য ডাকোটাকে হলিউডের পরিচিত মুখে পরিণত করে।
প্রথম সিনেমার জন্য তার পারিশ্রমিক ছিল আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে পরবর্তী দুটি সিনেমার জন্য তার পারিশ্রমিক কয়েক গুণ বেড়ে সাত অঙ্কে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক
‘ফিফটি শেডস’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়ার পর একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকেননি ডাকোটা। বরং ভিন্নধর্মী সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার নতুন দিক তুলে ধরেন।
‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’ এবং ‘সাসপিরিয়া’ তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ সিনেমায় জটিল ও অন্ধকার চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন ডাকোটা। সাবেক নেটফ্লিক্স নির্বাহী রো ডনেলির সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বোট রকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করে।
প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’ এবং ‘ড্যাডিও’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। ‘ড্যাডিও’তে শন পেনের বিপরীতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও পালন করেন।
‘ম্যাডাম ওয়েব’ দিয়ে ধাক্কা
তবে ডাকোটার ক্যারিয়ারে সব সিনেমা সাফল্য পায়নি। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিরো সিনেমা ‘ম্যাডাম ওয়েব’ তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সনি পিকচার্সের এই সিনেমায় ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তবে সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পাশাপাশি বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ছবিটি। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ডলার।
১৬৫ কোটি টাকার সম্পদের মালিক
সেলিব্রিটি নেট ওর্থের হিসাবে ডাকোটা জনসনের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।
অভিনয় তার আয়ের প্রধান উৎস হলেও ‘ফিফটি শেডস’ সিরিজের পারিশ্রমিক, পরবর্তী সিনেমাগুলো, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তার সম্পদ গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ভেরিটি’ সিনেমা নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন ডাকোটা। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।
‘ফিফটি শেডস’ দিয়ে শুরু হওয়া পরিচিতিকে ভিন্ন ধারার অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে বিস্তৃত করেছেন ডাকোটা জনসন। নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্কের বাইরে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই যাত্রাই তাকে হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন করে রেখেছে।