সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ পিএম

কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহর আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ এবং তার ব্যবহৃত গাড়িতে ইট ছুড়ে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।

রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রথমে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ার লালন শাহর আখড়াবাড়িতে যান। সেখানে মাজার পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান শোনেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় দুজন নারী তার সঙ্গে ছবি তুলতে চান। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সেখানে জড়ো হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।

এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রক্ষায় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে রাখেন। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে রাখা তার গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ভেড়ামারা উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব শোভন আহমেদ জানান, তারা কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে গিয়েছিলেন। লালনের আখড়াবাড়িতে গান শুনে বের হওয়ার সময় প্রথমে একজন ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক এসে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং গাড়িতে ইট মেরে গ্লাস ভেঙে দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তার দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই এ হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। ছাত্রদল মব সংস্কৃতির রাজনীতি বিশ্বাস করে না এবং এ ঘটনার সঙ্গে সংগঠনটি কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে ছাত্রদলের কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত থাকলে এর দায় তাকেই নিতে হবে।

ঘটনার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনিসহ স্থানীয় নেতারা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে ছিলেন। হামলার পর কিছু সময় তিনি মাজার প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তিনি মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম রাত ৮টার দিকে জানান, হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তার জানা নেই। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কখন এবং কেন সেখানে এসেছেন, তা পুলিশ জানত না। ঘটনার পর তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আরও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ‘ধর, ধর’ বলে তাড়া করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাদের পোস্টে এ অভিযোগ করেন।