জাতীয়

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, নিয়োগ পাচ্ছেন স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, নিয়োগ পাচ্ছেন স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি মিশন আচার্য। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে ঝিনাইদহের এই চাকরিপ্রার্থীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় মিশনের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রার্থী মিশন আচার্য। স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।

শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া রাশেদ খাঁনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিশন আচার্য জন্মের পর থেকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় থাকেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্য। তার মা অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

মিশনের পরিস্থিতি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান রাশেদ খাঁন।

মিশন আচার্য এর আগে জানিয়েছিলেন, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন তিনি। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন তিনি হওয়ায় নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেন মিশন।

তার ভাষ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

মিশন জানান, তার কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানাও ব্যবহার করতে পারেননি তিনি। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ওই এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় এবার নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মিশন আচার্য।