সারাদেশ
ধ্বংসের জন্য নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার পথে বিপজ্জনক রাসায়নিকবাহী কাভার্ড ভ্যানে আগুন
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসের জন্য নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার পথে একটি কাভার্ড ভ্যানের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বন্দর থানাধীন মালিবাগ এলাকায় প্রাণ-আরএফএল বেস্ট ডিপোর সামনে ঢাকা অভিমুখী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া এলাকায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে রাসায়নিক বহন করছিল কাভার্ড ভ্যানটি। পথে অতিরিক্ত গরম হয়ে গাড়িটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা রাসায়নিক বা এসিডে আগুন লাগেনি। কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। চালক ও সহকারী নিরাপদে রয়েছেন। পরে কাভার্ড ভ্যানটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। গাড়ির ইঞ্জিনে আগুন লাগলেও বহন করা রাসায়নিক বা এসিডে আগুন লাগেনি।
এদিকে, দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণের কার্যক্রম শুরুর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। প্রায় দুই দশক ধরে বন্দরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক ধ্বংসের জন্য নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় নয়টি কনটেইনার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
এসব কনটেইনারে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি চালান, মিথানলের পাঁচটি কনটেইনার এবং থিনারের দুটি কনটেইনার রয়েছে। বিপজ্জনক এসব রাসায়নিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাসায়নিকবাহী গাড়িগুলো নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের ইঞ্জিনে আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।