পরিবেশ-জলবায়ু

বৃষ্টি ঝরবে টানা পাঁচ দিন, দেশে বন্যার আশঙ্কা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

বৃষ্টি ঝরবে টানা পাঁচ দিন, দেশে বন্যার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, রাজধানীসহ বড় শহরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে, পানিবন্দি কয়েকশ পরিবার দুর্ভোগে রয়েছেন।

নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। এদিকে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের বড় শহরে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এর প্রভাবে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে।

  • শুক্রবার: রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • শনিবার থেকে সোমবার: প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, সঙ্গে বজ্রসহ দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

  • মঙ্গলবার: ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ফেনী জেলার মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বৃষ্টির পানি প্রবল দুর্ভোগ তৈরি করেছে। পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, নজরুলপাড়া ও কোনাপাড়া এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপের একমাত্র স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়ায় পানি নেমে যেতে পারছে না। এর ফলে দ্বীপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা স্লুইসগেট খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উত্তাল সমুদ্রের কারণে টানা দুই দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের আটটি বিভাগেই ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশালের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।