সারাবিশ্ব
ভূগর্ভস্থ কারখানায় আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান
আগে থেকে মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত কারখানায় আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংযোজনের কাজ শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ একাধিক সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন হামলা এড়াতে আরও ভূগর্ভস্থ সংযোজন কারখানা তৈরির চেষ্টা করছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা। তবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের খবর সেই দাবির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবার এবং সিআইএর সাবেক বিশেষজ্ঞ জিম ল্যামসন জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান বিপুল পরিমাণ ওয়ারহেড, এয়ারফ্রেম ও নির্দেশনা ব্যবস্থা মজুত করে রেখেছিল। এসব উপাদান ব্যবহার করে ইরান নতুন করে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলের দাবি, ইরানের পাশাপাশি তাদের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন।
নৌ অবরোধ ও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা সত্ত্বেও উপগ্রহচিত্রে ইরানের বিভিন্ন স্থানে দ্রুতগতিতে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ, সেতু ও সড়ক মেরামতের চিত্র দেখা গেছে। কিংস কলেজ ও প্যারিসের সায়েন্সেস পোয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিস্তৃত সামরিক অবকাঠামোর কারণে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পুনর্নির্মাণের সক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে পেরেছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল