সারাবিশ্ব
কঙ্গোতে দুই স্কুলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২৪ শিশু শিক্ষার্থী
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৪ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সাউথ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু শহরের দুটি স্কুলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনে প্রায় ৩০০টি ঘর পুড়ে গেছে। আহত ও আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আশপাশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে হাসপাতালের মেঝেতে আহত শিশুদের যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে মাটিতে ছোট ছোট শিশুদের নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিকেলের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এরপরও ধ্বংসস্তূপ ও ঢেউটিনের নিচ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বুকাভু ডিআর কঙ্গোর পাহাড়ি অঞ্চলের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এম২৩ বিদ্রোহীরা শহরটি দখল করে নেয়। বর্তমানে শহরটির প্রশাসন বিদ্রোহীদের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে রাজধানী কিনশাসার সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। বিবৃতিতে জাতীয় শিক্ষা ও নতুন নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং অনেকে আহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু রাখার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজধানী কিনশাসায় একই ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হল থেকে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসমাগমের স্থানগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় সরকার। পাশাপাশি এসব স্থানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা তদারক করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন দল পাঠানো হয়েছে।