সারাবিশ্ব

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার উদ্যোগ ইউক্রেনের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার উদ্যোগ ইউক্রেনের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় সামলাতে রাজস্বের নতুন উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটিতে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পার্লামেন্টে একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক। তার মতে, পর্নোগ্রাফি শিল্পকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হলে একদিকে শিল্পটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকার এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য কর রাজস্বও পেতে পারে।

ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি খাত থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত কর আদায় হতে পারে। তার ধারণা, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ আইনত নিষিদ্ধ। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইনগত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের বাজার বড় হয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ ও দুর্নীতির মুখে পড়েন। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে কর দাবি করলেও কর দেওয়া তাদের জন্য নতুন আইনি ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, কর পরিশোধের মাধ্যমে তারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করছেন, যা দেশটির আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

ঝেলেজনিয়াক এ পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট নারীদের কেউ কর না দিয়ে ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন, আবার যারা কর দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও পর্নোগ্রাফি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ইউক্রেনের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির তিনটি অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘুষ হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন।

এই শিল্পের আর্থিক পরিসরেরও বড় উদাহরণ পাওয়া যায় অনলি ফ্যানস-এর মূল প্রতিষ্ঠান ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্যে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন কনটেন্ট নির্মাতা অনলি ফ্যানস থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।

এরপর দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে। যারা নিয়ম মেনে করের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পান। তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং অবৈধভাবে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ আনা হয়।

পর্নোগ্রাফি বৈধ করার দাবিতে করা একটি পিটিশনও দ্রুত জনসমর্থন পায়। প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই এতে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার ব্যবস্থা করবেন।

ঝেলেজনিয়াকসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফার পাঠে অনুমোদন পেয়েছে। এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে এটি।

বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি শিল্পের বর্তমান আইনি অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি এই খাতকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনে কর আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে যুদ্ধের মধ্যেই এমন একটি শিল্পকে বৈধ করার উদ্যোগ দেশটির সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।