জাতীয়
প্রেসিডেন্টের আদেশে এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন ও দুই ভাগে বিভক্ত করার অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মওকুফ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে এসব কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ মওকুফ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের ওপর আরোপিত দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদন বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট দণ্ডাদেশ মার্জনা করেছেন। এর ফলে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে।
শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- কমিশনার (চলতি দায়িত্বে) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ. আ. আমীমুল ইহসান ও সাধন কুমার কুণ্ডু।
এ ছাড়া যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির; উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ জামিল এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশরের শাস্তিও মওকুফ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ভেঙে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হলে এর বিরোধিতা করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অধ্যাদেশ বাতিল এবং এনবিআরের বিদ্যমান কাঠামো বহাল রাখার দাবিতে তারা ধারাবাহিক আন্দোলনে নামেন।
প্রায় দেড় মাস ধরে চলা ওই আন্দোলনের একপর্যায়ে দেশের শুল্ক ও কর কার্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি শুরু হয়। জুনের শেষ দিকে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর ফলে দেশের রাজস্ব আদায় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যস্থতায় একপর্যায়ে আন্দোলন স্থগিত করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরও এতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আন্দোলনের পর এনবিআরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বরখাস্ত, বদলি, বাধ্যতামূলক অবসরসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে লঘুদণ্ডও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তথ্যানুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন দফায় মোট ১৬ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান শুরুর কথা জানায় সংস্থাটি।
এরপর নতুন সরকার গঠনের আগেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বা অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, আবার কারও বিরুদ্ধে আরোপ করা হয় লঘুদণ্ডসহ অন্যান্য শাস্তি।
দীর্ঘ সময় পর ২০ কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ মওকুফের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের আদেশে শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নেওয়া আগের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলোর একটি অংশ বাতিল হলো।
এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ওই আন্দোলন দেশের রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত সেই ঘটনার পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।