সারাবিশ্ব

মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি, ডায়ালাইসিস ছাড়াই ৯ মাস সুস্থ জীবন


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি, ডায়ালাইসিস ছাড়াই ৯ মাস সুস্থ জীবন
ছবি: সংগৃহীত

জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি শরীরে প্রতিস্থাপনের পর টানা ৯ মাস বেঁচে থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস। যুক্তরাষ্ট্রের এই নাগরিকের শরীরে ‘উইলমা’ নামের একটি শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

অ্যান্ড্রুস টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তার দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে যায়। কিডনি রোগীর তুলনায় প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত কিডনির সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেও মানুষের কিডনি পাওয়ার সম্ভাবনা তার জন্য কম ছিল। একই সময়ে তার মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা তার শরীরে ছোট আকৃতির জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। এরপর টানা ৯ মাস কোনো ডায়ালাইসিস ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন অ্যান্ড্রুস। শূকরের কিডনি নিয়ে কোনো মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড বলে জানা গেছে।

তবে নয় মাস পর তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা শূকরের কিডনিটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হতে শুরু করে। পরে চিকিৎসকেরা অ্যান্ড্রুসের শরীরে মৃত এক ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি সেই মানব কিডনি নিয়েই বেঁচে আছেন।

কিডনি রোগের শেষ পর্যায়ে থাকা রোগীদের জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় দাতার কিডনির সংখ্যা অনেক কম। এ কারণে প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা চলছে।

২০২৪ সালে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে শূকরের কিডনি শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এক রোগীর। তবে তিনি মাত্র ৫২ দিন পর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় মারা যান। এর আগে প্রাণীর অঙ্গ অন্য প্রাণীর শরীরে প্রতিস্থাপনের পরও দুই মাসের বেশি সময় বেঁচে থাকার নজির খুব কম ছিল।

সেই তুলনায় অ্যান্ড্রুসের শরীরে শূকরের কিডনি ৯ মাস কার্যকর থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান