জাতীয়

সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক গ্রেপ্তার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রাইভেটকার চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, জহিরুল ওই প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে মূলহোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘এসবি সদস্য আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রাইভেটকারের মালিক ও মূলহোতা জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে কয়েকজন যুবক মারধর করছিলেন। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় ওই যুবকেরা তার ওপরও হামলা চালান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে কারখানার পাশের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন এসআই আলতাফ হোসেন। পথে তিনি একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তিনি তাদের বাধা দেন এবং মারধরের কারণ জানতে চান।

এ সময় ওই যুবকেরা আলতাফ হোসেনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও হামলাকারীরা তাকে ছাড়েনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে আলতাফ হোসেন দৌড়ে নিজের কর্মস্থলের একটি কারখানায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও হামলাকারীরা থামেনি। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়।

হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে ঢুকে মেশিন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় তারা এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে মো. আরিফকে বেধড়ক মারধর করেন। হামলায় বাবা ও ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় প্রতিবেশীরা আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত তার ছেলে মো. আরিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সূত্রপাত এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরকে কেন্দ্র করে হলেও, পরবর্তী সময়ে তা সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।