সারাবিশ্ব

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, কাদায় চাপা পড়েছে সব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, কাদায় চাপা পড়েছে সব
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে তারা আর কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির সন্ধান পাননি। ফলে ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ শেষ করা হয়েছে।

নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করে। দলের নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।

সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে জানান, পুরো প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ কাদা ও মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাথরেও ভরে গেছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে তল্লাশি চালান। তবে যেখানেই খোঁজ করেছেন, সেখানেই কাদা ও মাটি পেয়েছেন।

উদ্ধারকারীরা জানান, বানের পানির প্রবল চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে।

গত ২৬ আগস্ট সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। এসব প্রকল্পে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। আকস্মিক বন্যায় সবগুলো প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সুড়ঙ্গগুলোতেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

এরপর থেকে নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্যরা কাদা ও মাটির স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার নয় দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও একজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন। তাদের উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আর কারও সন্ধান পাননি।

সঞ্জয় ও কবীরকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার পর সঞ্জয় জানান, বন্যার পানি আসছে বুঝতে পেরে তিনি অন্য শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন। এতে তার নিজের বের হতে দেরি হয়ে যায়। পরে তিনি আর সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেননি।

সঞ্জয় আরও জানান, নয় দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করে তিনি নিয়মিত মন্ত্র জপ করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জীবিত বের হতে পারবেন, এমনটা তিনি ভাবেননি।

শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে হড়পা বানে ১ হাজার ২৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।