রাজনীতি

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন: জামায়াত আমির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ ও বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের এক তরুণ কিছু কথা বলেছিলেন। অথচ তাকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেন তার কারণে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে গেছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা তাকে থানায় নিয়ে নাজেহাল করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সিফাতকে ছেড়ে দেন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, সেই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট। ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। এর সঙ্গে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

জামায়াত আমির বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। গ্যাস নেই, পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘ঢাকাবাসী, আপনারা দোয়া করবেন। আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ওষুধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ কোনো দল বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়।’