প্রবাস
সৌদি আরবে তিন দিন পর কক্ষ থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার
সৌদি আরবের আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মৃত্যুর পর টানা তিন দিন তার মরদেহ নিজ কক্ষে পড়ে ছিল।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সোহাগের পরিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবহা শহরের একটি বাসা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সোহাগ রানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ উল্যাহ মিয়ার বাড়ির বশির উল্যাহর ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, সৌদি আরবের আবহা শহরে সোহাগের মৃত্যু হয়। তিন দিন কর্মস্থলে না যাওয়ার পর সহকর্মীরা তার খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।
সোহাগের মামাতো ভাই ও সৌদি প্রবাসী সৈয়দ রিগান জানান, সোহাগ সাত বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। এর আগে তিনি দুবাইয়ে ছিলেন। সৌদি আরবে আসার পর গত কয়েক মাস তার আকামা ছিল না। তার পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। এগুলো নবায়নের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন সোহাগ।
সৈয়দ রিগান আরও জানান, গত সোমবার থেকে সোহাগ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন না। প্রথম দিন দোকানে তাকে না দেখে সহকর্মীরা ভেবেছিলেন, হয়তো অসুস্থ হয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও তিনি কর্মস্থলে না যাওয়ায় বিষয়টি কফিলকে জানানো হয়।
পরে কফিলসহ কয়েকজন সোহাগের বাসায় গিয়ে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কক্ষে সোহাগের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে স্ট্রোক করে সোহাগের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
সোহাগ রানা মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।