প্রবাস

সৌদিতে ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা


প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ এএম

সৌদিতে ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় মো. কামরুল হোসেন নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুল হোসেনের বয়স ৩৭ বছর। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলে সন্তানের বাবা ছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. সোলেমান রাসেল এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের দায়িত্ব শেষ করে কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আতঙ্কে সেখানকার আরও দুই কর্মীও পালিয়ে যান। পরে হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কামরুলকে গুলি করার পর ওই সৌদি তরুণ নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তবে কী কারণে তিনি কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার বাবা-মা, স্ত্রী হালিমা বেগম এবং দুই ছেলে ইয়াসিন ও ইয়ামিন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কামরুলের বাবা কৃষক। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কামরুলের মরদেহ দেশে এনে পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।