বিনোদন
সব পাপ ধুয়েমুছে আল্লাহর নাম নিয়ে মরতে চাই: পপি
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি জীবনের বাকি সময় শান্তি ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে চলচ্চিত্রে ফেরার বিষয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবনভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন পপি। সেখানে তিনি বলেন, “সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই। যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।”
পপির এই বক্তব্যে অভিনয় ও চলচ্চিত্রের ব্যস্ত জীবন থেকে নিজেকে আরও গুটিয়ে নিয়ে শান্ত ও ধর্মীয় জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। ফলে তার চলচ্চিত্রে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে পপির অবস্থান সবসময় একই ছিল না। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরতে চান। তবে যেকোনো কাজ দিয়ে নয়, ভালো কোনো কাজের সুযোগ পেলেই কেবল ফেরার কথা ভাববেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পপির। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি প্রশংসিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে ছিলেন পপি। ওই সময় তিনি নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। সুস্থ হওয়ার পর ২০২১ সালের শুরু থেকে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। এরপর তার হঠাৎ অন্তরালে চলে যাওয়া নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পপির বিয়ে ও সংসারজীবন নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত।
তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও চলচ্চিত্র থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার বিষয়ে পপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ফলে ভবিষ্যতে তিনি অভিনয়ে ফিরবেন, নাকি ধর্মীয় ও পারিবারিক জীবনেই মনোযোগ দেবেন—এখনো তা স্পষ্ট নয়।