প্রবাস
বাংলাদেশিদের টার্গেট করে মালয়েশিয়ায় পতিতাবৃত্তি, হাতেনাতে আটক ২৫
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি শ্রমিক ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত পতিতাবৃত্তি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চক্রটির মূলহোতা এক বাংলাদেশি ও এক থাই দম্পতিও রয়েছেন।
দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জালান কুচাই লামা ও জালান গেলুগোর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পর্যটকদের কাছে বিদেশি নারীদের মাধ্যমে দেহব্যবসার সেবা দেওয়া হতো। আবাসিক ভবনের চত্বরে প্রতি ৬০ মিনিটের জন্য ২০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক ভবনে ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত দুই মাস ধরে সক্রিয় ছিল চক্রটি। তারা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মালয়েশীয় নাগরিকও রয়েছেন, যিনি ওই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন।
অভিবাসন বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটক ২৫ জনের মধ্যে থাই দম্পতি ছাড়াও মিয়ানমারের তিন পুরুষ ও এক নারী, বাংলাদেশের তিন নারী, ইন্দোনেশিয়ার ১৪ নারী এবং ভিয়েতনামের দুই নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
তদন্তে দেখা গেছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের কারও কাছেই বৈধ ভিসা বা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ছিল না। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে তাদের সেবা প্রচার করত।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির মূলহোতা দম্পতি অন্য কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
অভিযানকালে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, বেশ কয়েকটি মুঠোফোন, কনডম এবং ১ হাজার ২১৫ মালয়েশীয় রিঙ্গিত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
আটকদের মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের ৫৬(১)(ডি) ও ৬(১)(সি) ধারায় আটক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে আরও সাত স্থানীয় ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।