সারাদেশ

‘কথিত পীর’ শামীমের কবর পাকা করে দিল প্রশাসন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

‘কথিত পীর’ শামীমের কবর পাকা করে দিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর মো. আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দারের কবর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকা করে দিয়েছে প্রশাসন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে শামীমের পুনরায় দাফন করা কবরটি পাকা করা হয়।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই কবর থেকে শামীমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান।

পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ থেকে শামীমের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে আগের কবরে সেগুলো পুনরায় দাফন করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবার শরিফ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, পুনরায় দাফনের পর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনও কবরটি পাহারা দিচ্ছেন।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমের দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ১২ এপ্রিল দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় শামীমের বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত চার আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।