জাতীয়
মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থায় মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে ভিন্নমতের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ নেতা ইতোমধ্যে গালাগালির সংস্কৃতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী অধিবেশনগুলোতে সব সংসদ সদস্য সংসদীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।
গত ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মোট নয় কার্যদিবস চলার পর বৃহস্পতিবার শেষ হয়। সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অধিবেশন সমাপ্তিসংক্রান্ত আদেশ পাঠের মধ্য দিয়ে স্পিকার অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
স্বল্প সময়ের এই অধিবেশনে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে ছয়টি বিল উপস্থাপন করা হয় এবং সবগুলোই পাস হয়। এ ছাড়া তিনটি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির বেশি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সংসদ সদস্যরা নোটিশ দেন। ৬৮ বিধিতে পাওয়া সাতটি নোটিশের মধ্যে দুটি গ্রহণ করে আলোচনা করা হয়। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গ্রহণ করা হলে ১৪টির ওপর আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ৭১-ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্যের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। ১৪৭ বিধিতে জমা পড়া দুটি নোটিশের মধ্যে একটির ওপর আলোচনা হয়েছে। ৩০২ বিধিতে একটি নোটিশ উত্থাপন করা হয়।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বেও বিপুলসংখ্যক প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ জমা হলেও তিনি ১৫টির উত্তর দেন। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার জন্য ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এর মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের জবাব দেন।
সব মিলিয়ে তৃতীয় অধিবেশনে আইন প্রণয়ন, কমিটি গঠন এবং সংসদীয় বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সদস্যদের প্রশ্ন ও নোটিশের মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরা হয়।