সারাবিশ্ব

কর্মী ভিসা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল যুক্তরাষ্ট্র


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম

কর্মী ভিসা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাসহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। কোনো বিদেশি কর্মীর চাকরি চলে গেলে এই সময়ের মধ্যে তিনি নতুন চাকরি বা নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পান।

চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতেও এই সময় কাজে লাগান অনেকে। বাড়ি বিক্রি, সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও পান তারা।

তবে প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড আর থাকবে না। চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা তার পক্ষে আবেদন করলে তিনি আবার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে পড়তে পারে বড় প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস চালু করা এই ভিসার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় এইচ-১বি স্পনসর। একইভাবে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক এবং এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীর জন্য এই ভিসা স্পনসর করে।

ডিএইচএসের ভাষ্য, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে তাদের দাবি, এর ফলে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের এসব পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

অন্যদিকে ব্যবসায়িক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনায় মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এর প্রভাব বেশি অনুভব করতে পারে। কারণ চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীদের হাতে থাকা সময় কার্যত অনেক কমে যাবে।