সারাদেশ

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, নারায়ণগঞ্জে দুই এসিল্যান্ড বদলি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, নারায়ণগঞ্জে দুই এসিল্যান্ড বদলি
ছবি: সংগৃহীত

অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার অভিযোগে আলোচনায় আসা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন তাদের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বদলি হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে এবং অংমাচিং মারমাকে অফিসে উপস্থিত না হয়েও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি করা হয়েছে।

আকস্মিক পরিদর্শনে অনুপস্থিত কর্মকর্তারা

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগ ওঠে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল।

বিষয়টি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের আওতাভুক্ত বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার রয়েছেন।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হতে পারে

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনও একই পদে বহাল রয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।