সারাদেশ
বর্ষা এলেই ভাঙনের কবলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ
বর্ষা এলেই উত্তাল হয়ে ওঠে সাগর। আর সাগরের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও বসতভিটা। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে কুয়াকাটা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। তবে বর্ষা মৌসুম এলেই সেই সৌন্দর্যের ওপর নেমে আসে ভাঙনের ভয়াবহতা। প্রবল ঢেউ, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রতিনিয়ত ক্ষয় হচ্ছে সৈকতের বালু। একদিকে সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ, অন্যদিকে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও মানুষের বসতভিটা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।
১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে। তবে সৈকতের দৈর্ঘ্য বাড়লেও কমছে এর প্রস্থ।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্রের ভাঙনে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। গত এক দশকে ভাঙনের শিকার হয়েছে নারিকেলবাগান, পুলিশ বক্স, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ভূমি অফিসের গেস্ট হাউসসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোটেল-মোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বহু মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বিস্তীর্ণ বালুর টেক ও বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে পাড়ি দিতে হতো দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমে এখন সমুদ্র চলে এসেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে।
কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক সোহানুর রহমান বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগকে অনেকেই সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখছেন। গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জিও টিউব ব্যবহারে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
গত দুই দশক ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা গেলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।