জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬ বিল পাস, প্রশ্নের জবাব ১ হাজার ৬৯৩


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬ বিল পাস, প্রশ্নের জবাব ১ হাজার ৬৯৩
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয়টি বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হলেও সংসদ সদস্যদের করা প্রশ্নের তুলনায় উত্তর দেওয়ার হার ছিল কম। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ১৫টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার সময় সংসদের কার্যক্রমের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।

গত ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এ অধিবেশনে মোট নয়টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয়টি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং সবগুলোই পাস হয়। পাশাপাশি ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।

সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় অধিবেশনটিতে সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ দেন। এসব নোটিশের প্রয়োজনীয় নিষ্পত্তিও করা হয়েছে।

স্পিকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে উত্তর দেওয়া হয়েছে ১৫টির। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্ন জমা পড়লে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কাছে সংসদ সদস্যদের পাঠানো ২ হাজার ৮২০টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৯৩টির উত্তর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ৬৮ বিধিতে সাতটি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি নোটিশ গ্রহণ করে আলোচনা করা হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গ্রহণ করা হয় এবং ১৪টির ওপর আলোচনা হয়।

৭১(ক) বিধির আওতায় দুই মিনিটের বক্তব্যের জন্য সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। ১৪৭ বিধিতে জমা পড়া দুটি নোটিশের মধ্যে একটির ওপর আলোচনা হয়। আর ৩০২ বিধিতে একটি নোটিশ উত্থাপন করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে সংসদে মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ভিন্ন মত প্রকাশের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, সংসদ নেতা গালাগালির সংস্কৃতি পরিহারের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলোতে সংসদ সদস্যরা সংসদীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, চিফ হুইপ ও হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অধিবেশন কাভার করা গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়। জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।

এ সময় সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সংসদীয় রীতি ও কার্যপ্রণালির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

পরে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আদেশ পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বৈঠক শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।