জাতীয়
হঠাৎ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
কয়লা সংকটের কারণে গত এক মাস ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে ঘাটতি ছিল। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছিল।
তবে দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর কেন্দ্রটির উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটেরও নিচে নেমে গেছে।
সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এখান থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
কেন্দ্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছে। বয়লারটি শীতল হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে দেশে দুই মাসের বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
কয়লা সংকট ও কারিগরি সমস্যায় পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার সংকট রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা ৩টায়, যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।