স্বাস্থ্য

পেছাল টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি, নতুন সময়সূচি ঘোষণা


স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:১৪ পিএম

পেছাল টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি, নতুন সময়সূচি ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের জন্য নির্ধারিত টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি এক মাসেরও বেশি সময় পিছিয়েছে। আগের সময়সূচি অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে প্রস্তুতিতে বিলম্ব হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী টিকাদান শুরু হবে ১২ অক্টোবর।

শনিবার (১৬ আগস্ট) সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ব্যবস্থাপক ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য সহকারীরা মাঠে না থাকলে কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী মোট ১৮ কর্মদিবস টিকাদান চলবে। প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয় ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তী ৮ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত বা স্কুলে না যাওয়া শিশুদের টিকা দেওয়া হবে টিকাদান কেন্দ্রে। নিবন্ধন ও কার্ড প্রদানের নিয়ম আগের মতোই বজায় থাকবে, যেখানে জন্ম নিবন্ধন সনদের পাশাপাশি বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর দিয়েও অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে।

সরকারি হিসাবে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশু-কিশোর এই টিকা পাবেন। একটি ডোজ ইনজেকশেবল টিকা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করবে। টিকাগুলো গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহায়তায় দেশে এসেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সময়মতো ক্যাম্পেইন না হলে অনেক শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। ঢাকার গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে প্রতি লাখে এক হাজারের বেশি টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার হার রয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারের অন্যতম।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, বেতনস্কেল উন্নয়ন ও চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া জাতীয় পর্যায়ের বড় ধরনের ক্যাম্পেইন সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড হলো স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর, যা দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে উপসর্গ অস্পষ্ট থাকায় শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।