সারাবিশ্ব

জন্মের তুলনায় মৃত্যুতে রেকর্ড বৃদ্ধি, ভয়াবহ জনসংখ্যা সংকটে জাপান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩২ পিএম

জন্মের তুলনায় মৃত্যুতে রেকর্ড বৃদ্ধি, ভয়াবহ জনসংখ্যা সংকটে জাপান
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে জনসংখ্যা হ্রাসের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্মের তুলনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ লাখ বেশি মানুষের। ১৯৬৮ সালে জনসংখ্যা গণনার সূচনা হওয়ার পর থেকে এটিই বার্ষিক জনসংখ্যা হ্রাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই ধারাবাহিক প্রবণতা দেশটিকে ভয়াবহ জনসংখ্যাগত সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পরিস্থিতিকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে শিশুর যত্ন, কর্মঘণ্টা হ্রাসসহ বিভিন্ন পরিবার-বান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও জাপানি নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানে অনীহা কাটিয়ে ওঠার মতো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি।

জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমেছে ৯,০৮,৫৭৪ জন। এ সময় জন্ম হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১ জনের, যা ১৮৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের। এর ফলে দেশটিতে জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা টানা ১৬তম বছরে গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৪৪ শতাংশ কম। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, যা বিশ্বব্যাংকের হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। গত দুই দশকে প্রায় ৪০ লাখ বাড়ি পরিত্যক্ত হয়েছে।

যদিও জাপানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৩৬ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ, তবুও এ সংখ্যা জনসংখ্যাগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট নয়। সরকার দীর্ঘদিন ধরে জন্মহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহনির্মাণে ভর্তুকি, বেতন-সহ পিতামাতার ছুটি এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব নীতির ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হতে অন্তত কয়েক দশক সময় লাগবে।