সারাবিশ্ব

ইসরায়েলের হাতে আটক মানবাধিকারকর্মীদের অনশন শুরু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম

ইসরায়েলের হাতে আটক মানবাধিকারকর্মীদের অনশন শুরু
ছবি: সংগৃহীত

গাজার ওপর দীর্ঘদিনের দখল ও অবরোধ ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করা বৈশ্বিক বহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’-র মানবাধিকারকর্মীরা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার অবরোধ ভাঙা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিটি। খবর—টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আনাদোলু এজেন্সি।

কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার শিকার ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে থাকা কয়েকজন কর্মী আটক হওয়ার পরপরই অনশন শুরু করেন। তাদেরকে আটক করে বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ইসরায়েলি নৌবাহিনী প্রায় ৪৪টি জাহাজে হানা দিয়ে দখল করে নেয় এবং ৫০টিরও বেশি দেশের অন্তত ৪৫০ জন মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে। এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ও দীর্ঘ ১৭ বছরের অবরোধ ভাঙা।

আটককৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আদা কোলাউ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।

২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বিভিন্ন মাত্রায় অবরোধ জারি করে রেখেছে। খাদ্য, ওষুধ, পণ্য ও ত্রাণসামগ্রী প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ কার্যত একটি ‘খোলা কারাগারে’ বসবাস করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন চালায়। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং তীব্র খাদ্য সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতেই বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারকর্মীরা গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে এবং অবরোধ ভাঙতে সমুদ্রপথে ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ উদ্যোগ নেন।

কিন্তু ইসরায়েলের কঠোর দমননীতি ও আটক অভিযানের কারণে এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনশনরত কর্মীদের মুক্তি এবং গাজার অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন থেকে।