সারাবিশ্ব

ইরানের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে সৌদিসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে সৌদিসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে একাট্টা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েত। এসব দেশ নিয়ে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান নেওয়ার স্পষ্ট আভাস মিলেছে।

রোববার (১ মার্চ) জিসিসি জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. আবদুললতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি, যিনি বর্তমানে জিসিসির চেয়ারম্যান এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ জর্ডান অংশ নেয়, যদিও দেশটি জিসিসির সদস্য নয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রথম দুই দিন-২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ-ইরানের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ২৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব ঘাঁটির বেশিরভাগই উপসাগরীয় অঞ্চলের এই ছয়টি দেশে অবস্থিত। হামলায় কয়েকটি দেশে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

জিসিসির বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। তাদের মতে, এসব হামলার মাধ্যমে তেহরান জিসিসিভুক্ত দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ নীতির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে।

বৈঠকে জিসিসি জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরস্পরের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্মত হন। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, জিসিসির সনদ ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রে হামলা হলে তা পুরো জিসিসির ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে জবাব দেওয়া হবে।

রোববারের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে ইরান যদি এ ধরনের আগ্রাসী হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে জিসিসির সনদ ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ছয় সদস্যরাষ্ট্র একযোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াবে-এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আরব নিউজ