সারাবিশ্ব

দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া আকাশছোঁয়া


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২১ পিএম

দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া আকাশছোঁয়া
ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুবাই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবের ও পর্যটকরা। 

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে শহরটি ছাড়ার জন্য এখন তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাইভেট জেট বা ব্যক্তিগত বিমান। ফলে বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় প্রাইভেট জেটের ভাড়া এখন আকাশচুম্বী।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ের স্বাভাবিক বিমান চলাচল বিপর্যস্ত। ফলে বিত্তবানরা পার্শ্ববর্তী দেশ ওমান বা সৌদি আরব হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়ার পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

তথ্যমতে, ইস্তাম্বুল যাওয়ার জন্য একটি ছোট জেটের ভাড়া বর্তমানে ৮৫ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা), যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন গুণ বেশি। এমনকি রিয়াদ থেকে ইউরোপ যাওয়ার ফ্লাইটের ভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকায়। বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক কোম্পানি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখায় চাহিদার তুলনায় জোগানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

দুবাইয়ের ঝলমলে হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার রেশ পৌঁছানোয় পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে অন্তত ছয়টি বড় প্রমোদতরি (ক্রুজ শিপ) এখন মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে আছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাজার হাজার পর্যটককে জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি তাদের নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দুবাই পর্যটন বোর্ড হোটেলগুলোকে পর্যটকদের থাকার মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও অনেক রুশ পর্যটক অভিযোগ করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে অথবা হোটেল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতোকে নিয়ে তার দেশে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা যখন দুবাইয়ে আটকা পড়ে আছেন, তখন মন্ত্রী সরকারি বিমানে করে সপরিবারে অবকাশ যাপন শেষে একাই দেশে ফিরে আসায় বিরোধীরা তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

দুবাইয়ে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বর্তমানে তিনটি দলে বিভক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। একদল দ্রুত ওমান সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে, দ্বিতীয় দলটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় সমুদ্রসৈকতে সময় কাটিয়ে নিজেদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে, আর তৃতীয় দলটি সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে অবস্থান করছে। যুদ্ধকবলিত এই অঞ্চল থেকে কবে নাগাদ পর্যটকরা নিরাপদে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়নি।